গাজীপুরে জায়েদা খাতুন বিজয়ী হওয়ার আট কারণ!


গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের বিজয়ে গাজীপুর মহানগরের বাইরের লোক বিস্মিত হলেও ওই এলাকার মানুষ বিস্মিত নন।

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে যে জায়েদা খাতুন জয়ী হবেন- এ বিষয়ে তাদের অনেকেই নিশ্চিত ছিলেন৷ আর সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ায় সেই ফলই এসেছে। তবে জায়েদা খাতুনকে নয়, ভোটাররা আসলে পরোক্ষভাবে ভোট দিয়েছেন গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে।

জাহাঙ্গীর আলম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত হন। তাকে মেয়র পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়। নির্বাচনের আগে দলে ফিরিয়ে নেয়া হলেও তাকে মনোনয়ন না দেয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তখন তাকে দল থেকে আবার স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়। কিন্তু ঋণখেলাপী হওয়ার কারণে তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। জাহাঙ্গীর হয়তো প্রার্থিতা যে বাতিল হবে তা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তার মা জায়েদা খাতুনকেও প্রার্থী করেন এবং তার প্রার্থীতা টিকে যায়। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খানকে হারিয়ে তিনিই এখন গাজীপুরের মেয়র।

গাজীপুরের বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয় এবং জাঙ্গীরের মায়ের জয় সম্পর্কে নানা ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। তারা বলছেন:

১. আওয়ামী লীগ জাহঙ্গীরকে বহিস্কার করলেও গাজীপুরের তৃণমুলে তার অবস্থান কখনোই দুর্বল হয়নি। তার তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ সব সময়ই ছিল। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকা কালেই তিনি তার এই শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।

২. আজমত উল্লা খান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও প্রথম সিটি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তৃণমূলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তাছাড়া তিনি মহানগরের আট থানায় যে কমিটি দিয়েছেন, তা ‘পকেট কমিটি’ নামে পরিচিত। তৃণমূলের সাথে তাদেরও যোগাযোগ নেই।

৩. এবার মনোনয়নের ব্যাপারেও আজমত উল্লা নিশ্চিত ছিলেন না। ফলে তার প্রস্তুতিও তেমন ছিল না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই জাহাঙ্গীরের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি মনোনয়ন পাবেন। জাহাঙ্গীরও প্রস্তুত ছিলেন।

৪. গাজীপুর আওয়ামী লীগ তিন ধারায় বিভক্ত। আজমত উল্লা তার একটি ধারার নেতৃত্ব দেন। জাহাঙ্গীর কোনো ধারার সাথে না থেকে আজমতবিরোধী ধারাগুলোর সমর্থন নেন।